তিন অক্ষরের একটি নাম ভেজাল। শব্দটি বাংলাদেশের জন্য একটি আতংক। তবে এ আতংক ভোক্তাদের জন্য। উদ্বেগের সাথে দেখা যাচ্ছে দেশের এমন কোন ভোগ্যপণ্য নেই যা ভেজাল ও ক্ষতিকর কেমিক্যাল থেকে মুক্ত। দেশের বিভাগীয় শহর থেকে শুরু করে জেলা শহরগুলোতে বাহারি নামে যে মেগাশপ প্রতিষ্ঠিত হয়েছে সেগুলো পর্যন্ত ভেজাল ও ফরমালিনমুক্ত খাদ্য নিশ্চিত করতে পারছে না। পত্রিকাগুলোতে প্রকাশিত সংবাদ থেকে জানা যায় মেগাশপগুলোতে ফরমালিন পরীক্ষার কোন মেশিন নেই। এমনকি এ ব্যাপারে কোন তৎপরতা ও নেই। শিশু খাদ্য ও জীবন রক্ষাকারী ঔষধ পর্যন্ত ভোক্তাদের জন্য নিরাপদ নয়। নকল ও নিম্ন মানের ঔষধে বাজার সয়লাব থাকায় পুরাতন ঢাকায় প্রায়ই র্যাবের অভিযান আমাদের মধ্যে উৎকণ্ঠা সৃষ্টি করে। বাজারে মানুষের জীবন নিয়ে এক শ্রেনীর ব্যবসায়ী যখন ভোক্তাদেরকে টাকার বিনিময়ে জিম্মি করে চরম অনৈতিক কাজ করে যাচ্ছে ঠিক তখনই দায়িত্ববোধ ও মানবতার টানে আত্মপ্রকাশ করে "জাতীয় ভেজাল প্রতিরোধ ফাউন্ডেশন”। ভেজালের বিরুদ্ধে বজ্রকণ্ঠ নিয়ে প্রতিষ্ঠানটি স্বপ্রণোদিত হয়ে কাজ করে যাচ্ছে। উদ্দেশ্য হচ্ছে ভেজাল ও বিষাক্ত খাদ্যের থাবা থেকে দেশবাসীকে বাঁচানোর উদ্যোগ। তবে "জাতীয় ভেজাল প্রতিরোধ ফাউন্ডেশন” একা এ উদ্যোগকে সফল করতে পারবে না। এর সফলতা নির্ভর করে ভোক্তাসহ দেশের সরকার, জনগন ও সংশ্লিষ্ট সকলের সমন্বিত প্রয়াস। যতদিন পর্যন্ত এদেশে ভোক্তা অধিকার নিশ্চিত না হবে ততদিন আমরা ভেজাল ও খাদ্যে বিষক্রিয়া থেকে মুক্তি লাভ করতে পারব না। আমাদের এ মহান উদ্যোগ যখনই কিছুটা হলে ও সফলতা বয়ে আনবে তখনই আমাদের চেষ্টা সার্থক হবে বলে মনে করি।
মো: মোশারেফ হোসেন
মহাসচিব